ফলে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বিমান ভাড়া আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, জনপ্রিয় রুটগুলোয় আগামী কয়েক দিনের সব টিকিট এরই মধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। খবর রয়টার্স।
বিশ্বের ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান আকাশপথগুলো গতকাল টানা চতুর্থ দিনের মতো বন্ধ ছিল। প্রতিদিন গড়ে এক হাজারের বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করা দুবাই বিমানবন্দর স্থবির হয়ে পড়ায় আকাশপথে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরোপগামী আকাশপথে এমিরেটস ও কাতার এয়ারওয়েজের মতো বড় সংস্থাগুলোর একচেটিয়া আধিপত্য থাকলেও বর্তমানে ফ্লাইট বন্ধ থাকায় এ রুটে যাত্রী পরিবহন মারাত্মকভাবে কমেছে। সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে বাধ্য হওয়ায় বিকল্প দীর্ঘ পথ ও জ্বালানি খরচ বাড়ার প্রভাবে টিকিটের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
এদিকে চলমান সংকটের প্রভাবে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষস্থানীয় ট্রাভেল সংস্থা ‘ফ্লাইট সেন্টার ট্রাভেল গ্রুপ’-এর কল সেন্টার এবং জরুরি সহায়তা নম্বরগুলোয় কল আসার হার প্রায় ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। ভোগান্তিতে পড়া গ্রাহকদের সহায়তায় কর্মীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটির গ্লোবাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড্রু স্টার্ক।
তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলীয়রা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে বেশ দক্ষ। তারা এরই মধ্যে বিকল্প পথ ব্যবহার করে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের ফ্লাইট বুকিং শুরু করেছেন। মধ্যপ্রাচ্য এড়িয়ে এখন চীন, সিঙ্গাপুর ও এশিয়ার অন্যান্য ট্রানজিট পয়েন্ট এবং হিউস্টনের মতো উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহর হয়ে তারা গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।’
উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী বিমান সংস্থাগুলো বর্তমানে বন্ধ থাকা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা এড়িয়ে বিকল্প পথে চলাচল করছে। এক্ষেত্রে তারা উত্তরে ককেশাস অঞ্চল হয়ে আফগানিস্তান অথবা দক্ষিণে মিসর হয়ে সৌদি আরব ও ওমানের আকাশপথ ব্যবহার করছে।
তবে বিকল্প এ দীর্ঘ পথ ব্যবহারের ফলে ফ্লাইটের সময় ও জ্বালানি খরচ উভয়ই বাড়ছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম যখন ঊর্ধ্বমুখী, তখন এ অতিরিক্ত ব্যয় বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালনা খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশন অব এশিয়া প্যাসিফিক এয়ারলাইনসের প্রধান সুভাষ মেনন পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পুরো মধ্যপ্রাচ্যই এখন আকাশপথের জন্য কার্যত নিষিদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে অনেক বিমান সংস্থাকে। তিনি আরো যোগ করেন, বিমানের টিকিট বিক্রির একটা বড় অংশ যদি বাড়তি তেলের দাম আর অপারেশনাল খরচেই চলে যায়, তবে এয়ারলাইনস কোম্পানিগুলোর হাতে আর কোনো মুনাফা থাকবে না।